রিভার্স সাইকোলজি বা বিপরীতকরণ মনঃপ্রক্রিয়া | reverse physiology

কোন মানুষকে দিয়ে আমার একটা কাজ ভালভাবে করানো দরকার কিংবা আমার মনমত একটা জিনিস ঐ মানুষটার সাথেই সম্পর্কিত
কিংবা সহজ কথায়,
আমি যেটা চাই সেটা হবার জন্য ঐ মানুষটাকেই দরকার।

কিন্তু সমস্যা হল, সেই মানুষটা কোনভাবেই কাজটা করতে রাজি হচ্ছে না বরং উল্টো কাজটাই করছে বা করতে যাচ্ছে, বেকে বসে হাস্যকর অজুহাত দাড় করিয়ে নানাভাবে প্রত্যাখ্যান করছে কিংবা আপনি সন্দেহ করছেন, শেষতক তাকে দিয়ে কাজটা হবে না।

সে ক্ষেত্রে তাকে রাজি করানো বা কাজটা করানোর জন্য একটা বহুল ব্যবহৃত কৌশল আমরা সবাই ব্যবহার করি। এই কৌশলটার নামই রিভার্স সাইকোলজি। এর একটা দাঁত ভাঙা কিন্তু সুন্দর বাংলা নাম দেয়া যায়, "বিপরীতকরণ মনঃপ্রক্রিয়া"

নামটা দেখে কি কৌশলটা সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যায়? একটু চিন্তা করবার জন্যই নাম আগে দিলাম, ব্যাখ্যায় আসছি এখন!

এই কৌশলটির একটা সহজ, ব্যাপক পরিচিত, সবার দ্বারা ব্যবহৃত একটা উদাহরণ দেই।

'' আপনাকে আজ সন্ধ্যায় আসবে বলেছিল। কিন্তু আপনি জানেন, ক আসবে না তার ব্যস্ততার জন্য।
তাই আপনি করলেন কি, আপনার চাওয়া 'ক যেন আসে' তা বাস্তবায়নের জন্য তাকে বললেন আপনার ঠিক বিপরীত চাওয়াটি, 'আরে তুমি আজকে আসবা না আমি জানি, কত কাজ তোমার, সময়টময় পাও না। কি দরকার তোমার আসার, সময় পাইলে আসলে আসবা নাইলে থাক, আইসো না আজকে '
এটা শুনে '' ঠিক আপনার কথার বিপরীত কাজ করার প্রাণপণ চেষ্টা করবে! সে হয়তো ঠিকই হাজির হয়ে যাবে আজকে সন্ধ্যায়!



কিন্তু কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকলে এখানে '' আসতে রাজি হবে?
১। যদি তার ইগো খুব বেশি থাকে আর আত্মমর্যাদায় বুদ হয়ে থাকে।
২। যদি সে কিছু প্রত্যাখ্যান করে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। কোন কথা আপাতভাবে মেনে নেয় না বা মেনে নিতে মনে থাকে না।
৩। যদি বিপরীতমুখি আচরণ বেশি করে, যখন যেটা করার কথা তার বিপরীত কাজ করে।
৪। যদি একটু বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায় বা আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে।

কেন এটা ঘটবে?
১নং ক্ষেত্রে, '' ইগোয়িস্টিক হইলে চাইবে নিজের ইগোকে বড় করে দেখাতে। আপনি '' কে আসতে মানা করেছেন কিন্তু সে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করবে তার বড়ত্ব। মানে আপনাকে ভুল প্রমাণ করে নিজেকে বড় করে দেখানো আর কি!
২ নং ক্ষেত্রে, '' সাধারণত আপনার কোন চাওয়া গ্রহণ না করে বরঞ্চ প্রত্যাখ্যান করে (ইচ্ছাকৃতভাবে না আসা) বা চাওয়াটুকু করতে '' এর মনে থাকে না(অনিচ্ছাকৃতভাবে না আসা) , তাহলে তার ওপর যদি আপনার বিপরীত চাওয়াটি কিংবা ব্যাপারটি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সে ভবিষ্যৎ এ আপনার চাওয়াটি করতেই আগ্রহি হবে। কারণ আপনার বিপরীত চাওয়াটি তার মনে দাগ কেটে থাকবে তাই দ্বিতীয়বার সে প্রত্যাখ্যান করতে চাইবে না।
৩ নং ক্ষেত্রে, '' কে যা বলা হয় সব সময় তার বিপরীত কাজ করে, তাহলে আপনি তাকে সন্ধ্যায় আসতে না বললে সে অবশ্যই আসবে!
নং ক্ষেত্রে, '' যদি হয় বেশি আবেগি বা মুডি, তাহলে তার মন দ্রুত পরিবর্তনশীল। কাজেই তাদের আবেগকে ব্যবহার করে আপনি তাকে সন্ধ্যায় নিয়ে আসতে পারবেন।

কাদের ওপর এই প্রক্রিয়া খাটে না?
যারা সহজে সব মেনে নেয়, কোন তর্ক ছাড়াই সব ব্যাপার গ্রহণ করে।
যাদের ইগো কম, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস সীমিত।

প্রক্রিয়াটির সুবিধা:
'কি দরকার তোমার আসার, সময় পাইলে আসলে আসবা নাইলে থাক, আমি তোমাকে জোর করব না'- এই কথাটি বলে এখানে '' এর উপর চিন্তার স্বাধীনতা তৈরি করা হয় কারণ তাকে কোনরকম ফোর্স করা হচ্ছে না। মানে '' আসবে কি আসবে না, এটা তার সিদ্ধান্তের বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ তার ওপর চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত পছন্দ করে না, বরং পছন্দ করে নিজের ইচ্ছানুসারে সিদ্ধান্ত নিতে। কাজেই আপনার বলা এই বিপরীত কথাটি তাকে সন্ধায় আসবার সুযোগ বেশি করে তৈরি করে দেয়।

প্রক্রিয়াটির অসুবিধা:
প্রক্রিয়া সব সময় কার্যকর নয় যখন আপনি অন্যকে 'Manipulate' করছেন, বা সহজ বাংলায় কিছু মিথ্যা কথা বা কাজ দিয়ে অন্যের কাছ থেকে আপনার কোন অসৎ চাওয়া আদায় করে নিতে চাচ্ছেন। বিশেষ করে 'সিরিয়াস' বা 'হতেই হবে' এমন ঘটনাগুলোতে এটা অকার্যকর। আর যদি সে বুঝতে পারে আপনি তাকে Manipulate করবার চেষ্টা করছেন, তাহলে সে খেপেও যেতে পারে!

সতর্কতা:
তাই অন্যের উপরোক্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বুঝে, অন্যের অজান্তে কিংবা Subconscious Mind এ এবং ক্ষেত্রবিশেষে এটা প্রয়োগ করতে হবে। আপনি যে বিপরীত কাজটা করছেন বা বিপরীত কথাটা বলছেন, সেটা এমনভাবে বিশ্বাস করাতে হবে যেন আপনি আসলেই তা চান।
যাদের আত্মবিশ্বাস কম তাদেরকে উলটা কথা বললে তারা সেটাই ভেবে বসবে এবং নিজেদের হীন মনে করবে। কাজেই তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অননুসরনীয়।

Jhon Mond

Phasellus facilisis convallis metus, ut imperdiet augue auctor nec. Duis at velit id augue lobortis porta. Sed varius, enim accumsan aliquam tincidunt, tortor urna vulputate quam, eget finibus urna est in augue.

Post a Comment