হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বইয়ের প্রকাশনা উৎসব

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বইয়ের প্রকাশনা উৎসব


হুমায়ূন আহমেদ চলে গেলেও তাকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই পাঠকের। তার মৃত্যুর পরেও নানাজন তাকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। সেসব বিশ্লেষণ নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রবল। সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমেদ বেশ কাছে থেকে দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদকে। যার অনেক কথাই পাঠক জানেন না। সেই অকথিত গল্প লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি তার ‘ফরিদ আহমেদের প্রকাশকনামা ও হুমায়ূন আহমেদ’ গন্থে। শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক এ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়ে গেল।

বইটি শুধু হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ গ্রন্থ নয়, তাতে উঠে এসেছে প্রকাশক ফরিদ আহমেদের জীবনকথাও। বইটিতে আছে তার প্রকাশক জীবনের নানা কথামালা, আছে দেশের প্রকাশনাশিল্প নিয়ে তার অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন লেখক ও প্রকাশক সম্পর্কে তার অনুভূতিসমগ্র।

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই স্বনামধন্য লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কবি হাসান হাফিজ, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ও বইটির লেখক ও সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এক ভিন্নরূপের হুমায়ূন আহমেদকে এ বইটিতে আমরা খুঁজে পাব। হুমায়ূন জনপ্রিয় লেখক ছিলেন এটা জানতাম কিন্তু তার জনপ্রিয়তা যে আকাশচুম্বী সেটা জেনেছি তার মৃত্যুর পরে শহীদ মিনারে পাঠকদের ঢল দেখে। তিনি আমার ভাই আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। আমি তাকে দেখেছি বড় ভাই হিসেবে। কিন্তু ফরিদ আহমেদ ভিন্নরূপে দেখেছেন, প্রকাশক হিসেবে দেখেছেন। তার লেখা পড়ে ভাই সম্পর্কে জেনেছি নানা অজানা কথা।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ফরিদ যে কাজটি করেন খুব যত্ন নিয়ে করেন। তিনি যদি প্রকাশক না হতেন অন্য কাজ করতেন সেখানেও সফল হতেন। এখন তার লেখক স্বত্বার পরিচয় মিলবে এ বইটিতে। বইকে কিভাবে জনপ্রিয় করা যায়, কিভাবে সহজে পাঠকের হাতে পৌঁছে দেয়া যায়- এ নিয়ে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। ফরিদ আহমেদ বলেন, জননন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ এদেশের প্রকাশনা জগৎকে ঋদ্ধ, সম্প্রসারিত করে গেছেন। দেশের তরুণ প্রজন্মকে বইমনস্ক করতে তার কৃতিত্ব অসাধারণ। আমি সেই লেখককের ইতিহাস-ভূগোল, অবকাঠামো ও অবয়ব নির্মাণ করতে চেয়েছি। পাশাপাশি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা লিখেছি।

চ্যানেল আই’র আয়োজনে তৃতীয় বাংলা খেয়াল উৎসব মঙ্গলবার : বাংলা খেয়াল উৎসব শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত এ উৎসব মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে একটানা চলবে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। চ্যানেল আই সরাসরি সম্প্রচার করবে এ উৎসব। এতে অংশ নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগসহ ৩৪টি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান এবং ১৫০ জন শিল্পী।

এ উপলক্ষে শনিবার চ্যানেল আই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান ও ফেরদৌস আরা, ড. নাশিদ কামাল, ড. লিনা তাপসী খান প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, এই বাংলা খেয়াল উৎসবে অংশ নেবেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, ওস্তাদ করিম শাহবুদ্দীন, ড. নাশিদ কামাল, ড. লিনা তাপসী খান, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, তানজিনা করিম স্বরলিপি, হারুনুর রশিদ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, আলিফ আলাউদ্দীন, গাজী আবদুল হাকিম, ফিরোজ খান, লিও জে বাড়ৈ প্রমুখ।

আজাদ রহমান বাংলা খেয়ালের আদি ও বর্তমান সময়ের সঙ্গে বাংলা খেয়ালের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে বলেন, বাংলা খেয়ালের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। উপমহাদেশীয় সংগীতের ধারায় এ খেয়ালের প্রতি নতুন শিল্পীদের আগ্রহী করে তুলবে এ উৎসব। একইসঙ্গে একটি দর্শকশ্রেণী সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে এ আয়োজন। শাইখ সিরাজ বলেন, চ্যানেল আই শুদ্ধসঙ্গীতের প্রসারে কাজ করতে চায়। সেই লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে। এবার বাংলা খেয়াল উৎসবটি আরও বেশি পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।

Blogkori

Phasellus facilisis convallis metus, ut imperdiet augue auctor nec. Duis at velit id augue lobortis porta. Sed varius, enim accumsan aliquam tincidunt, tortor urna vulputate quam, eget finibus urna est in augue.

Post a Comment