আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের ইতিবৃত্ত (blogkori.tk)

 আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের ইতিবৃত্ত 


আল্লাহ সোবহানাহু তাআলা গোটা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। মহান সে আল্লাহর রয়েছে অসংখ্য সিফাতি বা গুণবাচক নাম। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সিফাত ও নাম অগণিত। প্রচলিত আছে, আল্লাহ তাআলার নামের সংখ্যা তিন হাজার। ফেরেশতাদের (আ.) জ্ঞানে আছে এক হাজার নাম, নবী-রাসুলদের জ্ঞানে ছিল এক হাজার নাম, ঐশীগ্রন্থ চার কিতাবের মধ্যে তাওরাতে ছিল তিন শ, জবুরে তিন শ এবং ইঞ্জিলে ছিল আল্লাহর তিন শ নাম।

আলিমদের কাছে উপরোক্ত হিসাবটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখেছি। তাঁরা বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার তিন হাজার নামের এই হিসাবের কোনো দলিল নেই। তবে হাদিস শরিফে মহান আল্লাহর ৯৯টি সিফাতি নাম রয়েছে। আবার 'আল্লাহ'ও আল্লাহ তাআলার একটি নাম। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নিজেই বলেছেন, তাঁর নাম আল্লাহ। সে হিসেবে উপরোক্ত ৯৯টি নামসহ মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম ১০০টি। এর বাইরেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার আরো অনেক সিফাতি নামের উল্লেখ পাই। যেমন- ইয়া সাত্তারু, ইয়া হান্নানু, ইয়া মান্নানু, ইয়া মুজিরু ইত্যাদি। এসব নাম আল্লাহর ৯৯ সিফাতি নামের তালিকার বাইরেই আছে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, মহান আল্লাহ তাআলার রয়েছে অসংখ্য সিফাতি বা গুণবাচক নাম।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পবিত্র কোরআনে তাঁর সিফাতি বা গুণবাচক নাম প্রসঙ্গে বলেছেন, 'আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেই সব নামেই ডাকবে; যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদের বর্জন করবে; শিগগিরই তাদের কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে। ' [সুরা : আ'রাফ, আয়াত : ১৮০]

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম কোরআন তাফসিরকারীদের অন্যতম আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যা করে বলেছেন, 'উত্তম নামগুলো শ্রেষ্ঠতম গুণাবলি যথা- সর্বময় জ্ঞান, সর্বময় শক্তি ও ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন ইত্যাদি আল্লাহরই; তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে; যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাঁর নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার করে; অপর ব্যাখ্যায় তাঁর নামের সঙ্গে লাত, মানাত ও উজ্জার সাদৃশ্য সৃষ্টি করে, তাদের বর্জন করবে, দুনিয়ায় তাদের কৃতকর্মের সব খারাপ কাজ ও কথার ফল তাদের আখিরাতে দেওয়া হবে। ' [আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) : 'তাফসিরে ইবন আব্বাস', প্রথম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা ২০০৪, পৃষ্ঠা ৪৭৮]।

বিশ্বে পবিত্র কোরআনের আধুনিক তাফসিরকারদের অন্যতম মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি সুরা আ'রাফের এই ১৮০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার নামগুলোর ব্যাপারে ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, 'আসমাউল হুসনার অন্তর্ভুক্ত কোনো নাম দ্বারাই আল্লাহ তাআলার জিকির ও তাঁর কাছে দোয়া করা চাই। নিজের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য কোনো নাম তৈরি করে নেওয়া ঠিক নয়। কাফেরদের মনে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে যে ধারণা ছিল, তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ কিংবা ভ্রান্ত ও তাদের ভাবনা অনুসারে আল্লাহ তাআলার জন্য কোনো নাম বা বিশেষণ স্থির করে নিয়েছিল। এ আয়াত সতর্ক করছে যে তাদের অনুসরণে সেই সব নাম বা বিশেষণ আল্লাহ তাআলার প্রতি আরোপ করা জায়েজ নয়। সুতরাং মুসলিমদের এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। [মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি : তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, মাকতাবুল আশরাফি প্রকাশনী, ঢাকা-২০১০, পৃষ্ঠা ৪৭৪]। পবিত্র কোরআনের সুরা আ'রাফের ১৮০ নম্বর আয়াতের উপরোক্ত ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলা যায়, মহান আল্লাহর সিফাতি বা গুণবাচক নামগুলোতে রয়েছে এমন সব শব্দ, যা একমাত্র তাঁরই মহত্ত্বের, বড়ত্বের ও একত্বের উপযোগী। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম তাঁদের সংকলিত হাদিসে বর্ণনা করেন যে আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) : পবিত্র কোরআনুল করিম, বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির, অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দীন খান), খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প, মক্কা-মদিনা, ১৪১৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৫০৫]।

হাদিসটিতে উল্লিখিত 'আয়ত্ত' শব্দের আরেকটি ব্যাখ্যা দেখি অন্য কিতাবে। সেখানে বলা হয়েছে, 'আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলেপাক (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি ভালোভাবে আল্লাহ তাআলার নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ' [মাওলানা সা'আদ : মুন্তাখাব হাদিস, দারুল কিতাব, ঢাকা-২০০২, পৃষ্ঠা ৭২]।

'আয়ত্ত' শব্দের পরিবর্তে এখানে 'মুখস্থ' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এর মর্যাদা আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহর সুন্দরতম নামের নিয়মিত চর্চার ওপরই এখানে জোর দেওয়া হয়েছে। আর এতে আল্লাহর সিফাতি নামগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এ জন্য যে তা যেন কখনোই বিকৃত না হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জমানাতেই বিকৃতির ঘটনাগুলো ঘটেছিল। কাফেররা দাবি করছিল যে তাদের সৃষ্ট দেবতাগুলো 'লাত', 'উজ্জা', 'মানাত' প্রভৃতি আল্লাহর নামেরই অংশ। তাদের দাবি ছিল, 'লাত' নামটি এসেছে 'আল্লাহ' থেকেই, 'উজ্জা' এসেছে 'আজিজ' থেকে। এমন সব যুক্তি তারা প্রদর্শন করছিল। এ বিষয়েই নবী (সা.)-এর মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার সুন্দরতম নামের ব্যবহার সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এবং বর্তমানকালে বিভিন্ন অমুসলিমের লেখা গ্রন্থে, কিছু encyclopedia-তে কাফের-মুশরিকদের এ ধারণাকেই চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে ইসলাম-পূর্ব দেব-দেবীদের নামগুলো আল্লাহর সিফাতি নাম থেকেই এসেছে (নাউজুবিল্লাহ)।

কিন্তু এগুলোকে শুধু অজ্ঞানতা বলেই শেষ করা যাবে না; বরং এসব ধারণাই খুব বেশি করে তাদের মূর্খতাকে প্রকাশ করে। কারণ 'লাত', 'উজ্জা, 'মানাত' প্রভৃতি শব্দ মূলত আরবি হলেও এদের অনেক নাম অনারবি ভাষারও রয়েছে; কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার সিফাতি নামের শব্দগুলো আরবি ভাষার। এগুলো পবিত্র কোরআনেরই বিভিন্ন আয়াতে প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে আল্লাহর মহত্ত্ব, বড়ত্ব ও একত্ব বোঝাতে। [সাক্ষাৎকার : মুফতি মাহমুদুল আমীন, পরিচালক মাহাছুল বহসিল ইসলামিয়া, বসিলা, মোহাম্মদপু, ঢাকা। ]

সুরা আ'রাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে আসমায়ে হুসনা বা উত্তম নাম বলতে যেসব নামকে বোঝানো হয়েছে, সেসব নাম গুণ ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে সর্বোচ্চ স্তরের এবং তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্যই নির্দিষ্ট রয়েছে। এ বৈশিষ্ট্য লাভ করা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সে মাটি বা পাথরের তৈরি তথাকথিত দেব-দেবীর পক্ষে তো নয়ই, জিন বা মানুষ, এমনকি ফেরেশতাদের পক্ষেও সম্ভব নয়।

মুফতী শফী (রহ.) লিখেছেন, 'আল্লাহকে ডাকার জন্য মানুষ এমন মুক্ত নয়, যেকোনো শব্দে ইচ্ছা ডাকতে থাকবে; বরং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা দয়া করে তাঁকে ডাকার জন্য নানা রকম সিফাতি নামের শব্দও মানুষকে শিখিয়ে দিয়েছেন। আর মানুষ সেসব শব্দ দ্বারাই আল্লাহকে ডাকতে বাধ্য, মানুষ ইচ্ছামতো আল্লাহর গুণবাচক নামের শব্দ পরিবর্তন করতে পারে না। আল্লাহর গুণ-বৈশিষ্ট্যের সব দিক লক্ষ রেখে তাঁর মহত্ত্বের উপযোগী শব্দ চয়ন করতে পারা মানুষের সাধ্যের ঊর্ধ্বে। '

শাফী (রহ.) আরো লিখেছেন, 'আল্লাহকে সে নামেই ডাকতে হবে, যা আল্লাহ তাআলার নাম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তাঁর শব্দের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। এ জন্য তিনি সুরা আ'রাফের ১৮০ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষের অনুবাদ করেছেন এভাবে, 'আর তাদের বর্জন করো, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। '

বাংলা ভাষায় পবিত্র কোরআনের পূর্ণাঙ্গ অংশের প্রথম অনুবাদক গিরিশচন্দ্র সেন এই অংশের অনুবাদ করেছেন এভাবে, 'যাহারা তাঁহার নামেতে কুটিলতা করে, তাহাদিগকে পরিত্যাগ করো। ' [গিরিশচন্দ্র সেন : কোরআন শরিফ, বিশ্বসাহিত্য ভবন সংস্করণ, ঢাকা-২০০৪, পৃষ্ঠা ২০২]।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আল-কুরআনুল করীম অনুবাদ করেছে, 'যাহারা তাঁহার নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করিবে। ' [আল কুরআনুল করীম : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা (গ্রন্থ প্রকাশ ১৯৬৮), ৪৩তম সংস্করণ ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৫৯]

এসব অনুবাদের পারস্পরিক তুলনা করলে গিরিশচন্দ্র সেনের অনুবাদটিতে রাসুল (সা.)-এর আমলের এ নিয়ে সমস্যাটি অনুধাবন করা যায়। অন্যদের থেকে পৃথক করে গিরিশচন্দ্র সেনের অনুবাদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, 'যাহারা কুটিলতা করে। ' অন্যরা যেখানে অনুবাদ করেছেন 'বিকৃত করে', অথবা 'বাঁকা করে'। প্রকৃতপক্ষে, কাফের-মুশরিকরা আল্লাহর নাম নিয়ে কুটিলতারই আশ্রয় নিয়েছিল, তারা বলতেছিল, তাদের দেব-দেবীর নামগুলো আল্লাহর নাম থেকেই এসেছে। এ হলো কুটিলতা- বক্র, বাঁকা বা বিকৃত নয়।

মহান আল্লাহর নাম ব্যবহারের ওপর আলিমদের ফতোয়াও রয়েছে। তাঁরা বলেছেন, আল্লাহর যেকোনো নাম যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে না। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, আল্লাহকে 'কারিম' বলা যাবে; কিন্তু 'সখী' বলা যাবে না। 'নূর' বলা যাবে, 'জ্যোতি' বলা যাবে না। 'শাফী' বলা যাবে; কিন্তু 'চিকিৎসক' বলা যাবে না। কারণ হিসেবে আলিমরা বলছেন, দ্বিতীয় শব্দগুলো প্রথম শব্দের সমার্থক হলেও তা কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। [মুফতী শফী (রহ.), পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৫০৫]।

আলিমদের ফতোয়ায় আল্লাহর নামে নাম রাখা বিষয়েও মন্তব্য রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আসমায়ে হুসনাগুলোর মধ্যে কিছু নাম এমনও আছে, যেগুলো স্বয়ং কোরআন ও হাদিসে অন্যান্য লোকের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। আর কিছু নাম রয়েছে, সেগুলো শুধু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যবহার করার কোনো প্রমাণ কোরআন-হাদিসে নেই। যেসব নাম আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, সেসব নাম অন্যের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন- রহিম, রাশিদ, আলী, কারিম, আজিজ প্রভৃতি। পক্ষান্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য যেসব নামের ব্যবহার কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়, সেগুলো একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য এগুলো ব্যবহার করাই 'ইলহাদ' তথা বিকৃতি সাধনের অন্তর্ভুক্ত এবং নাজায়েজ ও হারাম। যেমন- রহ্মান, সুবহান, রাজজাক, খালেক, গাফফার, কুদ্দুস প্রভৃতি। [মুফতী শফী (রহ.) পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৫০৫-৫০৬]।

মহান আল্লাহর নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলিমদের মতামত ও নির্দেশনার উপরোক্ত বর্ণনাটি আমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে পৌঁছেছে। মুসলিমদের করণীয় হলো, কোরআন, হাদিস, শরিয়াহ (ইসলামী অনুশাসন) বিষয়ে আলিমদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রতি দৃঢ় থাকা। প্রশ্ন থাকলে আলিমদের কাছে গিয়ে তা নিরসন করা। আলিম মানে সত্যনিষ্ঠ আলিম।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে একই সঙ্গে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম ও অর্থবোধক এসব নাম নিয়ে দোয়া করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রতিনিয়ত নানা রকম কষ্ট-ক্লেশ, পেরেশানি, দুশ্চিন্তা ও জটিল বিষয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তখন সে আশ্রয় নেবে আল্লাহর রহমতের ছায়ায়, সে ছায়া পড়ে আছে আল্লাহর নানা সিফাতি বা গুণবাচক নামের তাৎপর্যের মধ্যে।

লেখক : সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর



www.blogkori.tk

Blogkori

Phasellus facilisis convallis metus, ut imperdiet augue auctor nec. Duis at velit id augue lobortis porta. Sed varius, enim accumsan aliquam tincidunt, tortor urna vulputate quam, eget finibus urna est in augue.

Post a Comment