মশা থেকে বাঁচাবে যেসব গাছ/মশা তাড়াবে যেসকল গাছ|| blogkori

মশা তাড়াবে যেসব গাছ











বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের দূষণ প্রভাব ফেলছে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর। স্বাস্থ্যহানির পেছনে অবশ্য রয়েছে ব্যক্তিগত বদভ্যাস ও অসচেতনতা। যেমন— মশা তাড়াতে রোজ দুবেলা, বিশেষ করে সন্ধ্যেবেলা অ্যারোসল বা কয়েল ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কুফল বয়ে আনে। প্রসঙ্গত যুক্তি দিয়ে হয়তো বলবেন, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর এ সময়টায় অ্যারোসল বা কয়েল ব্যবহার করাই তো উচিত। নিঃসন্দেহে এসব রোগের ভয়াবহতা রয়েছে এবং এ থেকে গা বাঁচিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু মশা প্রতিরোধক এসব স্প্রে বা কয়েল তৈরিতে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ওসব রোগের চেয়ে কোনো অংশে কম ক্ষতিকর নয়! তাছাড়া এসব মশা প্রতিরোধকারী রাসায়নিক দূষিত করে বাতাসকেও। সেক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে ঘরে গাছ লাগাতে পারেন। গাছের আশপাশে মশার উত্পাত বেশি বলে ধারণা থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসুন। এমন কিছু ঘরোয়া গাছ রয়েছে, যা মশার অপছন্দ। ফলে এসব গাছ থাকলে ঘরে মশার উত্পাত বাড়ার বদলে উল্টো কমে যাবে এবং উপরি পাওনা হিসেবে বিশুদ্ধ থাকবে ঘরের পরিবেশ।

মশা তাড়াতে কত কিছুই তো ব্যবহার করলেন। কত কিছুই তো কিনলেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। তাহলে উপায়? উপায় একটা বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেটা কোনো ওষুধ নয়, আজব এক গাছ। সেটি নাকি মশা তাড়াবে।

মার্কিন এক বিজ্ঞানী এ আজব গাছ আবিস্কার করেছেন।

গাছটির নাম সাইট্রনেলা। 


খুব সহজেই গাছটি বাড়ির বারান্দায় অথবা ব্যালকনিতে লাগাতে পারেন। খুব বেশি পানি ও সারের দরকার পড়ে না। আর এই গাছ বেঁচেও থাকে অনেক বছর।

এই গাছ থেকে একধরণের সুগন্ধি বেরোয়, যা মশাদের একেবারে অপছন্দ। আর এই গন্ধ পেলেই মশারা এই গাছের ত্রিসীমানায় ঘেষতে চায় না। গাছটি খরা প্রতিরোধেও কাজে আসে। এই ধরনের মাত্র ৬-৭ টি গাছ, এক একর জায়গাকে মশা মুক্ত রাখতে পারে। সুতরাং মশার জ্বালায় যারা অতিষ্ঠ হয়ে আছেন তারা দুই-তিনটি সাইট্রনেলা গাছ বাড়ীর চারদিকে কিম্বা ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে লাগিয়ে দেখতে পারেন কাজ হয় কিনা।

এছাড়া যেসকল গাছ আমরা হাতের কাছে পেয়ে থাকি। সেগুলো হচ্ছে- 

তুলসী
তুলসী গাছ ও এর পাতায় এক ধরনের তেল উত্পন্ন হয়, যা প্রাকৃতিক মশা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। বাড়ির আশপাশে যদি তুলসী গাছ থাকে, তাহলে মশা বংশবিস্তার করতে পারে না। শহুরে বাড়ির বারান্দায় এ গাছটি সহজেই বেড়ে ওঠে। তাই বাড়িতে যদি একটি বা দুটি তুলসীর চারা লাগান, তাহলে উপকৃত হবেন আপনিই।

লবঙ্গ গাছ
বাড়ির সামনে যদি বাগান বা গাছ-গাছালিপূর্ণ বেশ বড়সড় জায়গা থাকে, তা হলে প্রিয় ফল ও ফুলগাছের সঙ্গে একটি লবঙ্গ গাছও লাগিয়ে নিন। প্রাকৃতিকভাবে লবঙ্গ গাছ মশা প্রতিরোধ করে ও এর গন্ধ মশার পছন্দ নয়।

ইউক্যালিপটাস
ইউক্যালিপটাসের তেল মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় তাড়াতে শক্তিশালী উপাদান। যেখানে ইউক্যালিপটাস গাছ থাকে, সেখানে মশার উপদ্রব কম থাকে। ইউক্যালিপটাসের তেল ত্বকের জন্যও উপকারী।

গাঁদা ফুল
জানেন কি আপনার বাগানে হাসি ফোটানো হলদে-কমলা গাঁদাফুল মশাও তাড়ায় নির্ঝঞ্ঝাটভাবে! এ গাছে রয়েছে পাইরেথ্রেম নামক এক ধরনের উপাদান, যা প্রায় সব মশা প্রতিরোধকে ব্যবহার করা হয়। পাইরেথ্রেমের স্বতন্ত্র গন্ধ মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়কে বাড়ি থেকে দূরে রাখে এবং বাড়িকে করে বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যকর।

পুদিনা
চায়ের স্বাদ বাড়াতে সারা বিশ্বে পুদিনা অনন্য এক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন রান্নায় গন্ধ যোগ করতে ও কার্যকর মাউথফ্রেশনার হিসেবেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। ছাদে বা বারান্দায় অন্যান্য গাছের সঙ্গে কয়েকটি পাত্রে পুদিনা গাছ লাগান। বাড়ির আশপাশের নার্সারিতে যদি পাওয়া যায়, তবে কয়েক প্রজাতির পুদিনা লাগাতে পারেন। পুদিনা পাতা প্রাকৃতিকভাবে মশা তাড়ায়। খুব একটা যত্ন নিতে হয় না। দ্রুত বেড়ে ওঠে বলে সবুজবান্ধব উপায়ে মশা তাড়াতে লাগাতে পারেন পুদিনা। 

লেমনগ্রাস

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রান্নায় লেমনগ্রাসের ব্যবহার রয়েছে। সুগন্ধি ও টয়লেট্রিজেও লেমনগ্রাস ব্যবহার করা হয়। এর গন্ধ মানুষের যতটা পছন্দ, ঠিক ততটাই অপছন্দ মশার। তাই সম্ভব হলে বাড়ির ছাদে বেশ বড়সড় পাত্রে কিছু লেমনগ্রাস লাগিয়ে নিন।

Blogkori

Phasellus facilisis convallis metus, ut imperdiet augue auctor nec. Duis at velit id augue lobortis porta. Sed varius, enim accumsan aliquam tincidunt, tortor urna vulputate quam, eget finibus urna est in augue.

Post a Comment